ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় খাল পুনর্খনন: উদ্বৃত্ত পৌনে ২ কোটি টাকা ফেরত দিলো প্রশাসন

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ৩১-০৭-২০২৬ ০৪:০৯:২৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩১-০৭-২০২৬ ০৪:০৯:২৯ অপরাহ্ন
বগুড়ায় খাল পুনর্খনন: উদ্বৃত্ত পৌনে ২ কোটি টাকা ফেরত দিলো প্রশাসন ছবি : সংগৃহীত
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় চারটি খাল পুনর্খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উদ্বৃত্ত এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার নেপালতলী, নশিপুর, সোনারায় ও দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নে মোট তিন হাজার ৬০০ মিটার দীর্ঘ চারটি খাল পুনর্খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় চার কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

গত ২০ এপ্রিল বাগবাড়ী-নশিপুর চৌকিরদহ খালের পুনর্খনন কাজ উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে অন্য তিনটি খালের কাজও শুরু হয় এবং ২৯ জুন পুনর্খননের কাজ শেষ হয়।

প্রকল্পের আওতায় খাল পুনর্খননের পাশাপাশি দখলমুক্তকরণ, সরকারি নকশা অনুযায়ী খনন, দুই পাড় বাঁধাই, নিচু জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপন, চলাচলের সুবিধার্থে কালভার্ট নির্মাণ এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, খালগুলো পুনর্খননের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে।

পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য বৈধ বিল পরিশোধ করে প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। ফলে এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে সরকারি বিধি অনুযায়ী সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

পিআইও মফিদুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিন হাজার ৬০০ মিটার খাল নয় ফুট গভীর এবং ৩০ থেকে ৩৫ ফুট প্রস্থে পুনর্খনন করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কয়েক দফা পাড় মেরামতের প্রয়োজন হলেও নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ শেষ করা হয়েছে। খালের দুই পাশেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে।

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন প্রকল্প পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ইউএনও মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সব বৈধ ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, খালের কয়েকটি স্থানে প্রস্থ প্রাক্কলনের তুলনায় কম হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয়ও কম হয়েছে। ফলে এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়। সেই অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ